সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া ও ব্যাথা - কারণ ও প্রতিকার (2020)

সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া ও ব্যাথা – কারণ ও প্রতিকার (2020)

Health

‘নারীদের যৌনস্বাস্থ্য’ – আমাদের সমাজের অবহেলিত একটি অধ্যায়। পুরুষ হোক বা নারী- আমরা বিশ্বাস করি, যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যাগুলোর সমাধান করাটা জরুরী। তাই আজকে আমরা সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া ও ব্যাথা – কারণ ও প্রতিকার এই সম্পর্কে আলোচনা করবো।

কোন সন্দেহ নেই যে, শুধু ভোগান্তি হিসেবেই ব্যাপারগুলোকে মেনে না নিয়ে, বৈবাহিক সম্পর্ককে ভাল রাখতে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা ভীষণ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।

মানুষ নানা রকম যৌন সমস্যা নিয়ে ডাক্তার বা চিকিৎসকের নিকট যেয়ে থাকে। তার মধ্যে আজকে একটা দিক নিয়ে আমি আপনাদের সাথে কথা বলবো সেটা হলো সহবাসের সময় অর্থাৎ শারিরিক সম্পর্কের সময় বা তার পরে কেনো জ্বালাপোড়া ও ব্যাথা হয়। আপতত দৃষ্টিতে যদি এটি চিন্তা করি তাহলে একটু হাস্যকর মনে হতে পারে এবং এ নিয়ে এতো কথার বলার কি আছে এসব মনে হতে পারে। কিন্তু যারা আসলে এই সমস্যাটায় ভুগছেন এটা আসলে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভোগান্তি এবং এই ছোট একটা সমস্যা নিয়ে অনেক খিটমিটে একটা অবস্থা হতেও দেখা যায়। যদিও এটি একটি সাধারনত বিষয় নয় তাই আমি আপনাদের সাথে কিছুটা আলোচনা করবো এই বিষয় নিয়ে যাতে মায়েরা যারা আছেন, মেয়েরা যারা আছেন তারা ধরতে পারেন এখানে আসলে প্রধান সমস্যা গুলো কি এবং কোন জিনিস গুলোর দিকে আসলে নজর দিতে পারি তাহলে এখান থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।

সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া ও ব্যাথা – কারণ ও প্রতিকার এই বিষয়টিকে দুইটি ভাগে ভাগ করে নিতে পারি যেহেতু বিষয়টি শারীরিক সম্পর্কের সময় এবং পরের বিষয়। তাই বিষয় হলোঃ

  1.  বিছানার কিছু ব্যাপার এবং
  2.  বিছানার বাহিরের কিছু ব্যাপার।

সাধারনত বিছানার কিছু ব্যাপার বলতে আমরা বুঝাই যখন একজন মেয়ে শারীরিক সম্পর্কে যাচ্চেন তখন তিনি এর জন্য প্রস্তুত কি না এবং তার জোনি এর জন্য প্রস্তুত হয়েছে কি না তার বড় একটি চিহ্ন হলো তার জোনি পথে পিচ্ছিলতার সৃষ্টি হওয়া। এখন এই জিনিসটা সম্পূর্ণ রুপে নির্ভর করে কতটুকু সেক্সুয়ার স্টিমুলেশন তিনি তার পার্টনার বা সহকর্মীর কাছ থেকে পাচ্ছেন। এখন ঠিক এই জায়গাটিতে আমরা আমাদের দেশে অনেক স্বামী আছেন যাদের এই বিষয়ে অনেকটা অনীহা দেখা যায় অথবা আরো বলা যেতে পারে এই বিষয়ে জ্ঞানের অভাবে তারা তাদের স্ত্রীদের এই বিষয়ে মনোযোগ দিতে চান না। তাতে অনেক ক্ষেত্রেই যেটা হয় যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্কটা খুব তাড়াখুড়া করার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার একটা প্রবণত থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে আবার স্ত্রীর প্রতি যথেষ্ট সহনশীলতার অভাব দেখা যেতে পারে। এই দুই ক্ষেত্রেই নারী আসলে লুব্রিকেশন অর্জন করতে পারেন না। যার ফলে যখনই শারীরিক হয়ে যাচ্ছে যখনই এই পুরো কাজটা হয়ে যাচ্ছে ব্যাথাময় কারণ এখানে ছিক্রেশন নাই তার ব্যাথা হচ্ছে এবং যখনই শারীরিক সম্পর্কটা শেষ হচ্ছে তখন খুবই ব্যাথা হচ্ছে।

তাই আমাদের উচিৎ প্রত্যেকটা দম্পতির শুধু শারীরিক সম্পর্কে সন্তুষ্ট হিসেবে না নিয়ে এটাকে একটা প্রসেস হিসেবে নিবেন। স্ত্রী এখানে অনেক ইমোশনার ভাবে যুক্ত হতে চায়। হয়তো আপনাদের এই রিলেশনে যথেষ্ট যত্ন নেয়া হচ্ছে না। আপনারা হয়তো সরাসরি শারীরিক সম্পর্কে চলে যাচ্ছেন যেটা আসলে তাকে একটা কষ্টের ভিতর ফেলে দিচ্ছে এবং দিনের পর দিন হয়তো এটা আপনাকে বলছেন কিন্তু আপনি মনে করছেন এটা হয়তো তার একটা বাহানা তার একটি অজুহাত কিন্তু এখানে আপনার যে একটা বড় ভূমিকা আছে তা একটু চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে। তাই যদি আমাদের এই বিষয়টা একটু ভালোভাবে বুঝে নেয়া যায় এবং শারীরিক সম্পর্কের আগে অন্তত আপনি ২০-২৫ মিনিট অন্তরঙ্গ একটা  সময় কাটানো বলতে আমরা যেটা বুঝি সেটা যদি নিশ্চিত করা যায় তাহলে মায়েদের জন্য বোনেদের জন্য এই ব্যাপারটা অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়। এটা হলো আমাদের প্রথম যে আঙ্গিকের কথা বলেছিলাম বিছানার টপিক হিসেবে।

এই জায়গাটায় আমরা ২য় যেই বিষয়টা আমরা আনতে পারি সেটা হলো সাইকোলজিকেল কম্পোনেন্ট। আমরা ধরে নিলাম একজন বিবাহিত দম্পতির প্রথম যেই বিষয়টা বললাম তা তার নেই। দ্বিতীয় যেই বিষয়টা এখানে গুরুত্ব পাবে যে একটা সাইকোলজিকেল কম্পোনেন্ট, অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের অনেক সময় দেখা যায় অতীত থাকে যেখানে হয়তো যৌন হয়রানির ইতিহাস আছে যেই স্মৃতিটা আসলে অনেক পেইনফুল। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সেই খান থেকে অনেক নারী ভেবে থাকেন এটা খুব ব্যাথাময় এবং কঠিন একটা বিষয় হতে যাচ্ছে। ঠিক ঐ সময় থেকে সে তার সকল অঙ্গ শক্ত করে ফেলছে এবং এই সময় শারীরিক সম্পর্কটা একটা দস্তাদস্তির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। সাভাবিক ভাবেই এ রকম যাদের অবস্থা হবে তাদের শারীরিক সম্পর্কটা খুবই কষ্টদায়ক এবং জ্বালাপোড়া হতে পারে।

আরও একটি আঙ্গিকে আলোচনা হবে সেটা হলো যখন মেয়েরা মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার যে সময় পৌচাচ্ছেন এই সময়টাতে মেয়েদের শরীরে ফিমেল হরমোন নামে আপনারা যেটা চিনেন বিশেষ করে সিস্টোজেন হরমোন এর কথা যেটা আপনারা সবাই জানেন। দেখবেন এটার পরিমান একটা সময় কমে যেতে শুরু করে, নাই হতে শুরু করে। এই সময়টাতে এই ফিমেল হরমোন গুলো আসলে গন্থি গুলোকে নিশ্বরন নিয়ন্ত্রন করে। যখন এটার পরিমান কমতে থাকে তখন সাভাবিক ভাবেই শুস্কতা দেখা দেয়। আমরা দেখতে পাই আসলে যারা নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যারা ব্যাথা এবং জ্বালাপোড়ার কথা বলছেন তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই কিন্তু তারা হয়তো মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় বা তার কাছাকাছি চলে গেছেন এটা হলো একটা আঙ্গিক।

এর পর আমরা যে আর একটি আঙ্গিক নিয়ে কথা বলতে পারি তা হলো জোনি পথের মাংসপেশি গুলো প্রচন্ড শক্ত হয়ে যাচ্ছে। এই রকম সমস্যা হলে তাদের একটু চিকিৎসার সমুক্ষিন হয়তো হতে পারেন। অনেক সময় যাদের এই সমস্যা গুলো থাকে তাদের আসলে ব্যাথাময় এবং জ্বালাপোড়ার অনুভুতি ভীষণ থাকে। এগুলো হলো বিছানায় থাকা অর্থাৎ সহবাসের সময়কার কিছু সমস্যা।

এবার একটু আসি আমরা যে আমরা বিছানার বাহিরের কিছু কারণ বলতে কি বোঝানো হয়েছে- এটা বলতে গিয়ে আমি আপনাদের কিছু ইনফেকশনের কথা বলবো। মেয়েদের অনেক রকম ইনফেকশন হয়ে থাকে তার মধ্যে মেয়েদের সাধারন একটা ইনফেকশন হলো চুুলকাতে থাকে এবং চুলকাতে চুলকাতে জোনি পথে ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং এই রকম সময়ে যখন একটি মেয়ে শারীরিক সম্পর্কে যাচ্ছেন তখন কিন্তু তার ব্যাথা হওয়াটা ভীষণ সাভাবিক। হয়তো আপনি অনেক ডাক্তারের কাছে ঘুরছেন কিন্তু আপনার ইনফেকশনের চিকিৎসাটা হচ্ছে না তো আপনি কিন্তু আসলে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক থেকে পালাতে শুরু করেছেন এদিকে আপনার স্বামীর সাথে আপনার শারীরিক সম্পর্ক হচ্ছে না, ইমোশোনার সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাচ্ছে শুধু মাত্র একটা ফানগাল ইনফেকশনের কারনে। তো এই রকম আরও নানা রকম ইনফেকশন মেয়েদের হয়ে থাকে।

এরপর আমরা যেই প্রসঙ্গটা নিয়ে একটু কথা বলবো সেটা হচ্ছে যে আমাদের অনেকরেই কিন্তু ডায়বেটিকস আছে তারা হয়তো অন্য কোনো চিহ্ন প্রকাশ করছেন না কিন্তু আপনার ঐ জায়গাটায় চুলকাচ্ছে এই অসস্থিটা হচ্ছে। তাই আপনার অনেক সময় দেখবেন যদিও আপনি সহবাসের সমস্যা নিয়ে ডাক্তারে নিকট যাচ্ছেন কিন্তু আপনার রক্ত পরীক্ষা করলে দেখা যাবে আপনার ব্লাড সুগার অনেক বেশি। ডায়বেটিকস এমন একটা সমস্যা যার ফলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে যায়। যখনই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে তখনই ইনফেকশনের পরিমান বেড়ে যাচ্ছে।

আরও একটি সমস্যা যেটা আমাদের দেশে খুবই দেখা যায় সেটা হচ্ছে আমাদের দেশের সোস্যাল কনটেক্স এর কারণে এটা একটা জঘন্য এবং নোংরা জায়গা এমন ধারণা হতে পারে। ঠিক সেই জায়গাটা থেকে আমরা দেখি কিছু কিছু নারী খুবই পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে বেশি নজর দিয়ে ফেলে। অনেক সময় দেখা যায় অনেক বেশি ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করছেন, অনেক কিছু দিয়ে জিনিসটাকে পরিস্কার করছেন যার ফলে এক ধরনের ক্ষতি আসলে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে এবং সেই জায়গায় অনেক ইনফেকশনও হতে পারে। তাই আমাাদের এই দিকেও একটু নজর রাখতে হবে।

আর একটা বিষয় যেটা না বললেই না অনেকেরই এলার্জি এর সমস্যা থাকে। যেমন আমরা বিভিন্ন ধরনে আন্ডার গার্মেন্টস গুলো পড়ছি, এমনকি কনডমের ক্ষেত্রেও এলার্জির সমস্যাটা হতে পারে। যেমন অনেক সময় দেখা যায় স্বামী যেই ব্যান্ড এর কনডম ব্যবহার করছেন সেটা পরিবর্তন করার পর সমস্যাটা অনেকটা কমে গেছে।

তাই আমরা যদি এক কথায় একটু বলার চেষ্টা করি যে, সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যাথার যে অনুভুতিটা আছে সেটা আসলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমাধান যোগ্য একটা সমস্যা তাই এটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা না করে ভালো কোনো ডাক্তারের পরামর্শও নিতে পারেন।

এবার আশা যাক কিছু সমাধানে যেমন লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা। যেটা আমরা বেজাইনাল লুব্রিকেন্ট নামে ফার্মেসীতে গেলে আপনারা পাবেন। তাই আপনাদের যাদের এই রকম সমস্যা আছে তারা ফার্মেসী থেকে এটা নিতে পারেন। এর বাইরে যদি আপনার ইনফেকশন থাকে তাহলে আপনার ট্রিটম্যান্ট করতে হবে। আর আপনি যেটাকে ফানগাল ইনফেকশন মনে করছেন সেটা আসলেই ফানগাল নাকি ভাইারাল নাকি ব্যাকটেরিয়াল নাকি অন্য কিছু একটা সেটা ভালো ভাবে জানার কিন্তু খুবই দরকার আছে। খুবই বেশি সময় ধরে আন্ডার গার্মেন্টস ব্যবহার না করা। বিশেষ করে যখন পিরিয়ড বা মাসিক হয় তখন এবং প্যাড পরিবর্তন করতে হবে। নিয়মিত আন্ডার গার্মেন্টস গুলো ধুয়ে ফেলা এবং পরিস্কার রাখা। এই ভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। আর হ্যাঁ অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় স্বামী এবং স্ত্রীর ভালো ইমোশনার সম্পর্ক না থাকলে এই লুব্রিকেশনটা হতে চায় না। সেক্ষেত্রে একজন ভালো সেক্সুয়াল ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন যে আপনাদের শারীরিক সম্পর্ক টাকে আরও ভালো করতে পারে।

যদি আপনার আমাদের পোষ্টটি বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে আপনি এই ভিডিও দেখতে পারেন- সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া ও ব্যাথা – কারণ ও প্রতিকার

আরও দেখতে পারেন ব্রণ কেনো হয় এবং এর প্রতিকার কি- ব্রণ কেনো হয় এবং এর সঠিক চিকিৎসা কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *